আরো

    হরিয়ানা ছাগল পালন – দূর্জয় সরকার

    ✅হরিয়ানা(কোটা) ছাগল

    হরিয়ানা ছাগল নিয়ে খামারীর আগ্রহের শেষ নেই।চলুন জেনে নেওয়া যাক অধিক লাভজনক এই হরিয়ানা জাতের ছাগল সম্পর্কে।

    হরিয়ানা ছাগল পরিচিতিঃ

    হরিয়ানা ছাগল মূলত বিটল কিংবা শিরোহি জাতের অথবা এ জাতের সংকর।ভারতের হরিয়ানা ও রাজস্থান থেকে উন্নতজাতের এসব ছাগল বাংলাদেশে আনা হয় তাই এদের নাম হয়ে যায় হরিয়ানা জাতের ছাগল।
    এজাতের ছাগল দুধ,মাংস এবং চামড়া উৎপাদনের জন্য বেশি উৎপাদন বা লালন পালন করা হয়।
    মাংস উৎপাদনকারী জাত হিসেবে এই ছাগল পৃথিবীতে ব্যাপক জনপ্রিয়।

    বৈশিষ্ট্যঃ

    জন্মকালীন ওজনঃ হরিয়ানা ছাগলের জন্মকালীন ওজন গড়ে প্রায় ২.৫ থেকে ৪.৫ কেজি।
    দুধ উৎপাদনঃ গড় প্রায় ১.৫ থেকে ২.০ কেজি।
    চুলঃবার্ষিক প্রায় ৫০০-৬০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে বছরে দুবার হয়।
    শরীরের ওজনঃপুরষ ছাগল গড়ে ৫৫-৬৫ কেজি এবং নারী ছাগল গড়ে ৪০-৪৫ কেজি হয়ে থাকে।
    শারীরিক দৈর্ঘ্যঃপুরুষ ছাগলের দৈর্ঘ্য গড়ে ৮৪ সে.মি এবং নারী ছাগল ৭৭ সে.মি হয়ে থাকে।

    বাসস্থানঃ

    পরিষ্কার, দূর্গন্ধমুক্ত,উষ্ণ, বায়ু এবং আলো প্রবেশ করে এমন বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। অস্বাস্থ্যকর, স্যাঁতসেতে, বদ্ধ, অন্ধকার,গন্ধময় পরিবেশে ছাগল অসুস্থ হয়ে যেতে পারে,প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক ছাগলের জন্য ৮-১০ বর্গফুট জায়গা প্রয়োজন এবং উঠতি বয়সের জন্য ৫ বর্গফুট জায়গা রাখতে হবে।
    এই ছাগল দুই ভাবেই লালনপালন করা যায় মাঠে চরিয়ে এবং স্টল ফিডিং করিয়ে দুইটার জন্যই উপযুক্ত জাত।

    খাদ্যঃ

    এরা সাধারণত তাদের দেহের ওজনের ৪-৫% খাবার খেয়ে থাকে।এর মধ্যে ৬০-৮০% আঁশ জাতীয় খাবার এবং ২০-৪০% দানাদার খাবার দিতে হবে।

    এটি কোথায় পাওয়া যায়?

    এ ধরনের ছাগল এখন বাংলাদেশের সকল জেলাতেই পাওয়া যায়।তবে যশোর এবং সাতক্ষীরা জেলায় এধরনের ছাগলের খামার বেশি।তবে ঢাকা ও আশেপাশের এলাকায় এর ভালো ডিমান্ড থাকায় সেখানে কিছু বিক্রেতা ও খামারী গড়ে উঠেছে।

    পালনের উপকারিতাঃ

    ১)আত্মকর্মসংস্থান এর ব্যবস্থা হয়।
    ২)পরিবারিক আয় বাড়ে এবং পরিবারের দুধ,মাংসের চাহিদা পূরণ হয়।
    ৩)বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত হওয়া যায়।
    ৪)হরিয়ানা ছাগলের বাচ্চা স্টল পালনের জন্য উপযুক্ত জাত।
    ৫)পরিকল্পনা ভাবে কোটা ছাগল লালন পালন করলে এক বছর বয়সে ৫০ থেকে ৬০ কেজি ওজনের পৌঁছাতে পারে কোন ক্ষেত্রে কম বেশি হতে পারে।
    ৬)এই জাতটি প্রথম ১২ মাস বয়সে প্রথম হিটে আশার জন্য পরিপক্কতা হয় কোন ক্ষেত্রে কম বেশি হতে পারে।
    ৭) অধিক দুধ উৎপাদন করতে পারে।রেকর্ড ২+ কেজি দুধ দিতে সক্ষম।
    ৮)হরিয়ানা ছাগলের ল্যাক্টেশন মানে বাচ্চা দেয়ার পর হিটে আসতে সময় নেয় ৯০-১২০ দিন আবহাওয়ার কারণে কম বেশি হতে পারে।
    ৯)কোটা ছাগল প্রজননের মাধ্যমে এক থেকে দুই টা বাচ্চা দেয় কোন সময় আরো বেশি দেয়।
    ১০)মাংস উৎপাদনকারী জাত হিসেবে এটি ব্যাপক জনপ্রিয়।
    ১১) এর বৃদ্ধির হার ও দাম বেশি হওয়ায় খামারী লাভবান হয়।
    ১২)ছাগল পালনে অল্প জায়গার প্রয়োজন হয়, পরিবারের যে কোনো সদস্য দেখাশোনা করতে পারেন।
    ১৩)চামড়া রপ্তানি করে আয় করা যায়।
    ১৪)অল্প পুঁজিতে লালন পালন করা যায়।

    দামঃ

    এই ছাগলের দাম তুলনামুলক বেশি।ভালো মানের ৩ মাস বয়সী একটি বাচ্চার দাম ২৫-৩০ হাজার টাকা।একটি বাড়ন্ত ছাগলের দাম ৫০-৬০ হাজার টাকা বা তার অধিক।এই ছাগল কোরবানী ঈদে ২-৩ লাখ বা তার বেশি হয়।

    স্বাস্থ্য ব্যবস্থপনাঃ

    নিয়মিতকৃমিনাশক, PPR ইত্যাদি টিকা প্রতি ঋতু পরিবর্তন এর সময় বা মহামারী তে প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। সময়মতো ভ্যাকসিন দিলে মৃত্যুহার হৃাস পাবে ফলস্বরুপ দুধ এবং মাংস উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
    গর্ভবতী ছাগলের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে।

    প্রাণীর চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে কোন হাতুড়ে চিকিৎসকের এর পরামর্শ থেকে বিরত থাকতে হবে। যত্রতত্র অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার কমাতে হবে।যে কোন চিকিৎসার ক্ষেত্রে রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারি ডাক্তার এর পরামর্শ গ্রহণ করুন।

    সর্বোপরি, হরিয়ানা ছাগল পালন স্বল্পখরচে একটি লাভজনক পদ্ধতি।

    “স্বল্পখরচে ছাগল পালুন
    বেকারত্ব দূর করুন”

    লেখনীতেঃ Durjoy Sarker
    বিএসসি ভেট সাইন্স & এ এইচ
    সিরাজগঞ্জ সরকারি ভেটেরিনারি কলেজ, সিরাজগঞ্জ।

    রিলেটেড আর্টিকেল

    সামাজিক যোগাযোগ

    9,748,568ভক্তমত
    1,567,892অনুগামিবৃন্দঅনুসরণ করা
    56,848,496গ্রাহকদেরসাবস্ক্রাইব
    - Advertisement -

    সর্বশেষ আর্টিকেল

    জনপ্রিয় আর্টিকেল

    error: Content is protected !! Don\'t try to copy!!!