আরো

    লেয়ার মুরগির লাইটিং শিডিউল ও আলোক প্রদানে সতর্কতা

    আজ আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব বানিজ্যিক লেয়ার মুরগির লাইটিং শিডিউল নিয়ে। লেয়ার মুরগির ডিমের উৎপাদন এর উপরে লাইটিং বা আলোর প্রভাব অনেক গুরুত্বপূর্ণ। লাইটিং কম বা বেশি হলে কিংবা আলোড় তীব্রতা কম বেশি হলে তা সরাসরি মুরগির ডিমের প্রোডাকশন এবং মুরগির ওজনের উপরে প্রভাব ফেলে। তাই মুরগি বয়স অনুযায়ী লেয়ার মুরগির আলোক কর্মসূচি মেনে চলা উচিত। লেয়ার মুরগির লাইটিং শিডিউল সঠিক হলে তা মুরগির ওজন ধরে রাখা এবং মুরগির ডিমের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

    লেয়ার মুরগির লাইটিং শিডিউল

    বয়সআলোক ঘণ্টা (দিনের আলো + কৃত্রিম আলো)আলোর তীব্রতা
    ১ম-৩য় দিন ২৪ ঘণ্টা৩০-৪০ লাক্স
    ৪র্থ-৭ম দিন২৩ ঘণ্টা
    ২য় সপ্তাহ২২ ঘণ্টা২৫ লাক্স
    ৩য় সপ্তাহ২১ ঘণ্টা
    ৪র্থ সপ্তাহ২০ ঘণ্টা
    ৫ম সপ্তাহ১৯ ঘণ্টা১০-২০ লাক্স
    ৬ষ্ঠ সপ্তাহ১৮ ঘণ্টা
    ৭ম সপ্তাহ১৭ ঘণ্টা
    ৮ম সপ্তাহ১৬ ঘণ্টা
    ৯ম সপ্তাহ১৫ ঘণ্টা
    ১০ম সপ্তাহ১৪ ঘণ্টা
    ১১ তম সপ্তাহ১৩ ঘণ্টা
    ১২ – ১৮ তম সপ্তাহ অথবা ৫% ডিমের আসা পর্যন্তশুধুমাত্র দিনের প্রাকৃতিক আলো
    ১৯ সপ্তাহ১৩ ঘণ্টা২০-৪০ লাক্স
    ২০ সপ্তাহ১৩:৩০ ঘণ্টা
    ২১ সপ্তাহ১৪ ঘণ্টা
    ২২ সপ্তাহ১৪:৩০ ঘণ্টা
    ২৩ সপ্তাহ১৫ ঘণ্টা
    ২৪ সপ্তাহ১৫:৩০ ঘণ্টা
    ২৫ সপ্তাহ১৬ ঘণ্টা

    লেয়ার মুরগি পালনে আলো প্রদানে সতর্কতা

    • প্রথম দিনের ব্রুডিং থেকে শুরু করে ১৬ সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত নানান ঝক্কি ঝামেলা সামলিয়ে চুড়ান্ত সময় আসে অতি সতর্কতার সহিত লেয়ার পুলেট এর সেকেন্ডারি রিপ্রোডাক্টিভ ওরগান কে (ওভারী এবং ডিম্বনালী) ডিম পাড়ার উপযুক্ত করে তোলার।
    • পুলেট যদি দৈহিক ওজনে এ বয়সে পিছিয়ে থাকে এবং এমন অবস্থায় কৃত্রিম আলো দেওয়া শুরু করলে ওভারিতে ফলিকুল বা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ডিম গুলো আস্তে আস্তে বড় হওয়া শুরু করবে এবং এক সময় প্রতিদিন একটি করে পূর্ণাঙ্গ ডিমে রূপান্তরিত হবে।
    • এ সময়ে বড় ঝুঁকি থাকে- যদি মুরগির ডিম পাড়ার জন্য যে পরিমান বডি ওয়েট থাকার দরকার তার থেকে কম থাকে স্বাভাবিক ভাবে তার ডিম্বনালীও সে ভাবে ডেভেলপ হবে না, এমন পরিস্থিতে আলোর স্টিমুলেশনে ডিম তৈরি হয়ে যখন অপরিপক্ক ডিম্ব নালী দিয়ে ডিম আসতে থাকে পুলেটের এগ বাউন্ড বা ডিম আটকে মৃত্যু হতে পারে অথবা ডিম সহ ডিম্ব নালীর শেষ ভাগ বা জরায়ু বেরিয়ে আসে যাকে আমরা প্রোলাপস বলি।
    • প্রোলাপ্স বা এগ বাউন্ডে পুলেটের মৃত্যু ঝুঁকি এড়াতে ষোল সপ্তাহ বয়সের মধ্যে সঠিক বডি ওয়েট অর্জন জরুরি।
    • বাদামী মুরগির ওজন ১৫০০ গ্রাম এবং সাদা মুরগির ওজন ১২০০ গ্রাম অর্জিত হলে অথবা মুরগির প্রোডাকশন ৫% আসলেই কেবলমাত্র লাইটিং চালু করা উচিত।
    • যদি ১৭/১৯ সপ্তাহেও পুলেটে কাংখিত ওজন না আসে তাহলেও লাইট সিডিউল চালু করা থেকে বিরত থাকতে হবে যতক্ষন পর্যন্ত ডিম পাড়ার জন্য সঠিক বডি ওয়েট না আসে।
    • এক্ষেত্রে পুলেটের বয়স বিবেচনায় না নিয়ে দৈনিক ওজন কে বিবেচনায় নিতে হবে। লাইট দেরিতে দেওয়ায় ডিম হয়তো দেরিতে আসবে কিন্তু,
      • ১. লেয়িং পিরিয়ডের শুরুতে প্রোলাপ্স এবং এগ বাউন্ডে পুলেটের মৃত্যু ঝুঁকি কমবে।
      • ২. জরায়ুতে ইনফেকশন এর ঝুঁকি কমবে।
      • ৩. সঠিক বডি ওয়েটে লাইটিং সিডিউল চালু করলে একটু দেরিতে ডিম আসলেও শুরুতেই বড় আকারের ডিম পাওয়া যাবে। চুড়ান্ত ভাবে পার হেন হাউজ এগ প্রোডাকশন বেশি পাওয়া যাবে।
    • লাইটের সংখ্যাঃ সেডের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ অনুযায়ী সাধারণত প্রতি ১০০ বর্গফুট জায়গার জন্য ২৭ ওয়াটের ১ টি এনার্জি বাল্ব অথবা প্রতি ১০০ বর্গফুট জায়গার জন্য ৯ ওয়াটের ১ টি এলইডি বাল্ব হিসেবে বাল্ব লাগাতে হবে। বাল্ব বা লাইট গুলো ৭-৮ ফুট উচ্চতায় সেট করতে হবে।
    • শীতকালে পালিত পুলেটের সঠিক বডি ওয়েট অর্জন বাস্তবিকই একটি চ্যালেঞ্জ – এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে সঠিক বয়সে আলোক দান কর্মসূচি ও ততোধিক চ্যালেঞ্জিং। একজন দক্ষ খামারী এ সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই কিন্তু সফল খামারী হয়ে ওঠেন।

    রিলেটেড আর্টিকেল

    সামাজিক যোগাযোগ

    9,748,568ভক্তমত
    1,567,892অনুগামিবৃন্দঅনুসরণ করা
    56,848,496গ্রাহকদেরসাবস্ক্রাইব
    - Advertisement -

    সর্বশেষ আর্টিকেল

    জনপ্রিয় আর্টিকেল

    error: Content is protected !! Don\'t try to copy!!!