আরো

    পোল্ট্রি ও মৎস খামারে কর বাড়ানোর প্রস্তাব; এ যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা

    ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশের পোল্ট্রি ও মৎস খামারে একক ও নতুন কর ব্যবস্থাপনা চালু করার পরিকল্পনা করছে সরকার। এতে উভয় খাতে বাড়বে করের হার। এনবিআরের তথ্যনুযায়ী, বার্ষিক ১০ লাখ টাকার বেশি আয়ের ওপর ৫ শতাংশ আর ২০ লাখ টাকার বেশি আয়ের ওপর ১০ শতাংশ কর দিতে হবে খামার মালিকদের। এছাড়াও পোলট্রি খাতের করমুক্ত আয়ের সীমা কমানোর কথা ভাবছে সংস্থাটি। দেশের বর্তমান বাজার চাহিদা ও রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনসহ কর ফাঁকির সুযোগ বন্ধ করতে এনবিআরকে এই পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

    তবে নতুন করহারে পোলট্রি ও মাছের মতো অতি প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের বাজার আরও অস্থির হওয়ার আশঙ্কা করছেন এই খাতের উদ্যোক্তারা। বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের চড়া বাজারে নতুন এই কর ব্যবস্থাপনা দেশের বাজারে সংশ্লিষ্ট পণ্যের দাম আরও বাড়িয়ে দেবে বলেও মনে করছেন তারা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বাজেট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আসন্ন বাজেটে বিদ্যমান পোলট্রি খাতে আয়কর মুক্ত সুবিধা ২০ লাখ টাকা থেকে কমে ১০ লাখ টাকা করা হতে পারে। এতে ১০ লাখের বেশি টাকা আয়ের ওপর ৫ শতাংশ, ২০ লাখ টাকার বেশি বার্ষিক আয়ের ওপর ১০ শতাংশ, এবং ৩০ লাখ টাকার বেশি আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ কর দিতে হবে। বর্তমানে এ পরিমাণ আয়ের ওপর কর দিতে হয় ১০ শতাংশ।

    এদিকে রাজধানীর বাজারে ১ মাসের ব্যবধানে প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়ে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা দরে। অথচ এর উৎপাদন ব্যয় ৬০ টাকা। এছাড়াও এক কেজি মুরগির মাংসে উৎপাদন ব্যয় ১১০-১২০ টাকা হলেও বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকার উপরে। ফলে নতুন কর হারের সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ভোক্তাদের ওপর, এমনটাই মনে করেন ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমান। মুন্সীগঞ্জের পোলট্রি ও হ্যাচারি খাতের অন্যতম উদ্যোক্তা ‘মহশিন পোলট্রি ও হ্যাচারি ফার্মের’ মালিক মহশিন হওলাদার বলেন, এখনো মহামারির প্রকোপ কাটিয়ে উঠতে পারেনি এখাতের ব্যবসায়ীরা। এছাড়াও ফিডের মূল্য রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। ফলে মুনাফার পরিমাণ আগের মতো স্থিতিশীল নেই। যার প্রভাব পড়ছে ডিম ও মাংসের বাজার দরেও। এমন অবস্থায় কর বৃদ্ধি এ খাতকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলবে। ইসলামিয়া এগ্রো ফার্মের পরিচালক মো. ইয়াসিন বলেন, বর্তমানে মুরগির উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধিতে মুনাফ কমেছে প্রায় ৬০ শতাংশ।

    আগে এক কেজির মুরগিতে প্রায় ২০ থেকে ২৫ টাকা লাভ করলেও তা এখন ৫ থেকে ৭ টাকায় নেমেছে। এ ছাড়াও এক বছরের মধ্যে ফিডের কাঁচামালে দাম বেড়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ। এমন পরিস্থিতিতে কর বাড়ানো হলে খামারিরা ব্যবসা রক্ষায় দাম বাড়াতে বাধ্য হবেন। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিবারই বাজেটে কর্পোরেট খাতে করছাড়, প্রণোদনার প্যাকেজসহ বিভিন্ন নীতি সহায়তা দেওয়া হয়। তাই বিশ্বব্যাপী খাদ্যের দাম বৃদ্ধিসহ দেশের চাহিদানুযায়ী খাদ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিতে সুযোগ সুবিধা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

    তা না করা হলে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে ভোক্তা পর্যায়ে। পোলট্রি ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, বর্তমানে এখাতের বাজার ছাড়িয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। যা দেশের মাংসের চাহিদার প্রায় অর্ধেক পূরণ করছে। এ ছাড়াও এ খাতে প্রবৃদ্ধির হার ১২ শতাংশেরও বেশি

    তথ্যসূত্রঃ

    রিলেটেড আর্টিকেল

    সামাজিক যোগাযোগ

    9,748,568ভক্তমত
    1,567,892অনুগামিবৃন্দঅনুসরণ করা
    56,848,496গ্রাহকদেরসাবস্ক্রাইব
    - Advertisement -

    সর্বশেষ আর্টিকেল

    জনপ্রিয় আর্টিকেল

    error: Content is protected !! Don\'t try to copy!!!