আরো

    “দুনিয়ার সবচেয়ে সহজলভ্য, সস্তা ও রুচিসম্মত প্রোটিন – ব্রয়লার মাংস”-ডাঃ মোঃ শাহ আজম

    ব্রয়লার কি?

    ব্রয়লার কেন খাবেন?

    ব্রয়লার বনাম গুজব!

    ব্রয়লার শিল্প ও বেকারত্ব দূরীকরণ।

    শুধুমাত্র মাংসের জন্য পালন করা দ্রুত বর্ধনশীল (৪ থেকে ৫ সপ্তাহে উপযুক্ত), পুরুষ ও স্ত্রী উভয় মুরগী ব্রয়লার নামে পরিচিত। ব্রয়লার পুরুষ জাতটি স্ত্রী জাত থেকে আকারে বড় হয়। বিশ্বে এই বর্ধিত জনগোষ্ঠীর মাংসের চাহিদা মেটানোর জন্যই দ্রুতবর্ধনশীল জাতের ব্রয়লার সৃষ্টি হয়েছে। সাধারনত ৩৫+ দিন বয়সের ব্রয়লারের মাংসের স্বাদ সব থেকে বেশি হয়।

    বাংলাদেশে (স্বাধীনতার আগে) ১৯৬৪ সালে ‘Eggs & Hen’ (কাশেমপুর,সাভার) নামক এক পোল্ট্রি খামারে সর্বপ্রথম ব্রয়লার মুরগী উৎপাদন শুরু হয়।
    এর পর ১৯৮০ সালের শুরুতে বাংলাদেশ বিমান-এর নিয়ন্ত্রণাধীন ‘বিমান পোল্ট্রি কমপ্লেক্স’ নামক বানিজ্যিক পোল্ট্রি খামারে একদিন বয়সী ব্রয়লার বাচ্চা বিক্রি শুরু করা হয়। ১৯৯০ সালের পর থেকে ব্রয়লার শিল্প ব্যক্তিমালিকানাধীন শিল্প হিসেবে দ্রুত প্রসারলাভ শুরু করে। বাংলাদেশের গ্রামগঞ্জে ব্রয়লার পরিচিতি লাভ করে ২০০০ সালের শুরু থেকে।

    প্রোটিনের চাহিদা স্বল্পমূল্যে পেতে চাইলে ব্রয়লার এর মাংস বিকল্প বর্তমানে বাজারে কিছু নেই। কেজি প্রতি ব্রয়লার (Live Broiler) খুচরা বাজারে সারা বছরেই ১৩০/- টাকার মধ্যেই উঠানামা করে। ব্রয়লার খুবই সুস্বাদু মাংস। বর্তমানে জনপ্রিয় গ্রিল; যাহা ব্রয়লার ছাড়া কল্পনা করা যায় না।

    ব্রয়লার নিয়মিত খাদ্য তালিকায় রাখাবেন; কারন-

    ১। চর্বিহীন মাংস খেতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই খাদ্য তালিকায় ব্রয়লার রাখতে হবে।
    ২। ব্রয়লার মাংসে প্রতি ১০০ গ্রামে প্রোটিন পাবেন ২২ থেকে ২৫ গ্রাম পর্যন্ত! যাহা অন্যান্য যে কোন মাংসের চেয়ে তুলনামূলক ভাবে অনেক বেশি।
    ৩। দামে সাশ্রয়ী ফলে ভোক্তা পর্যায়ে সব শ্রেণীর মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই থাকে।
    ৪। সুস্বাদু মাংস ও সহজে হজমযোগ্য।
    ৫। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

    ব্রয়লার কে নিয়ে গুজবের সম্পর্কটি বহুদিনের। কিছু অনলাইন পোর্টাল মিডিয়া আর কিছু মানুষের না বুজেই ব্রয়লার নিয়ে মন্তব্যই ব্রয়লার নিয়ে গুজব ছড়ানোর প্রধান কারন।

    বর্তমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য ব্রয়লারের মাংস খাদ্য তালিকায় নিয়মিত রাখুন। গুজবে কান দিবেন না, গুজব ছড়াবেন না।

    ব্রয়লার শিল্প বাংলাদেশ বড় একটি শিল্প। প্রতক্ষ ও পরোক্ষভাবে এর সাথে জড়িত কয়েক লক্ষ মানুষ। নারিশ, কাজি, সিপি, প্রোভিটা, প্যারাগন সহ প্রায় ৩০০+ কোম্পানি এই শিল্পের সাথে জড়িত। যেহেতু স্বল্প যায়গায় ও অল্প পুজিঁতে ব্রয়লার পালন সম্ভব পাশাপাশি ৩০ থেকে ৪০ দিনের মধ্যেই প্রডাক্ট রেডি করে মার্কেটজাত করা যায় তাই অনেক শিক্ষিত বেকার যুবক এই শিল্পের সাথে জড়িত হয়ে নিজেকে স্বাবলম্ভি হিসেবে দাড় করিয়েছে। ছোট বড় অনেক উদ্যোক্তা এই শিল্পে নিজের পুজিঁ বিনিয়োগ করেছে।

    উন্নত বিশ্বে মানুষ মুরগীর মাংস বলতে শুধু ব্রয়লার-কেই বুজে। তাই আসুন দেশের ব্রয়লার শিল্পকে টিকিয়ে রাখার জন্য ও দেশের সকল শ্রেণীর মানুষের প্রোটিনের চাহিদা পূরণের জন্য ব্রয়লার কে নিয়ে গুজবের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলি। ব্রয়লারের মাংস কে নিয়মিত খাবার তালিকায় রাখি পাশাপাশি অন্যকে ব্রয়লারের মাংস খেতে উৎসাহিত করি।

    ধন্যবাদন্তে;
    ডাঃমোঃ শাহ্-আজম খান
    ডিভিএম, এম এস ইন এনিমেল সায়েন্স (হাবিপ্রবি)
    সিনিয়র কাস্টমার সার্ভিস অফিসার, নারিশ।

    রিলেটেড আর্টিকেল

    1 মন্তব্য

    1. আসসালামু আলাইকুম
      আমি ছোট পরিসরে বয়লার মুরগির খামার করতে চাই।
      এ বিষয়ে আমার পূর্বে কোন বাণিজ্যিক অভিজ্ঞতা নাই।
      ধাকা এবং গোপালগঞ্জ দুইটি জায়গায় আমার খামার করার ইচ্ছা আছে। এ ব্যাপারে আমি বিস্তারিত সহযোগিতা কামনা করছি।

    Comments are closed.

    সামাজিক যোগাযোগ

    9,748,568ভক্তমত
    1,567,892অনুগামিবৃন্দঅনুসরণ করা
    56,848,496গ্রাহকদেরসাবস্ক্রাইব
    - Advertisement -

    সর্বশেষ আর্টিকেল

    জনপ্রিয় আর্টিকেল

    error: Content is protected !! Don\'t try to copy!!!