আরো

    গরু মোটাতাজাকরণ কি? গরু মোটাতাজাকরণের গুরুত্বপূর্ণ ৫ টি ধাপ

    গরু মোটাতাজাকরণঃ

    গরু মোটাতাজাকরণ বা বীফ ফ্যাটেনিং (Beef Fattening)বলতে কিছু সংখ্যক গরু বা বাড়ন্ত বাছুরকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় এবং উন্নত সুষম খাবার সরবরাহ করে ঐ গরুর শরীরে অধিক পরিমাণ মাংস/চর্বি বৃদ্ধি করে বাজারজাত করাকেই বুঝায়।

    গরু মোটাতাজাকরণের ধাপসমূহঃ

    ১ম ধাপঃ প্রকল্প চালুর উপযুক্ত সময়

    আমাদের দেশের আবহাওয়ায় যে কোন সময় এ প্রকল্প শুরু করা যায়। তবে আমাদের দেশে ঈদুল আজহার সময় গবাদি পশুর ব্যাপক চাহিদা থাকে। এই উৎসবে যাতে পশু বিক্রয় করা যায় সেই অনুপাতে প্রকল্প শুরু করতে হবে অর্থাৎ উৎসবের ৪/৫ মাস পূর্বে প্রকল্প চালু করা যেতে পারে। এছাড়া যে সময় গবাদি পশুর দাম কম থাকে এবং পশু খাদ্য পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায় সেই সময় প্রকল্প শুরু করা যায়। যে সময়ে পশুর দাম চড়া ও খাদ্যাভাব এবং রোগের প্রকোপ বেশি সেই সময় প্রকল্প হাতে নেওয়া যাবে না। তবে ডিসেম্বর/ জানুয়ারি মাসে আরম্ভ করলে ভাল হয়। কারণ, এ সময় একটু ঠান্ডা থাকে ফলে গবাদিপশুকে এক স্থান হতে ক্রয় করে অন্য স্থানে সহজেই পরিবহন করা সহজ হয় এবং পশু নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারে। প্রকল্প চালুর উপযুক্ত সময় নির্ভর করবে যেখানে খামার করা হবে সেখানকার আবহাওয়া, গরু ও খাদ্যের বাজার দর ইত্যাদি।

    ২য় ধাপঃ সঠিক জাতের গবাদি গরু নির্বাচন ও ক্রয়

    উপযুক্ত জাত ও ধরন অনুসারে গরু নির্বাচন এবং ক্রয়ের ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহ অনুসরণ করতে হবে।

    ক) গরুর বয়স: মোটাতাজাকরণ বা বীফ ফ্যাটেনিং কর্মসূচীর জন্য ২-৪ বৎসরের এঁড়ে/ষাড় গরু ক্রয় করা উচিত। যদিও এঁড়ে বাছুরের বয়স নিয়ে দ্বিমত রয়েছে। কেউ কেউ এঁড়ে বাছুরের বয়স ১.৫-২ বছর হওয়া উচিত বলে মনে করেন। তবে এই বয়সের পশু প্রচুর খেতে পারে না এবং খেলেও হজম করতে পারে না। প্রকৃতপক্ষে এ বয়সের ষাঁড় গরুর শরীর ঠিকমত বাড়তে ৫/৬ মাস লেগে যায়। এজন্য ২ বছরের উর্দ্ধে এমন পশু হলেই ভাল হয়। সাধারণত ২-৪ বছরের সংকর জাতের ষাঁড় গরুর বৃদ্ধির হার অন্যান্য বয়সের তুলনায় বেশী হওয়ায় মোটাতাজাকরণের ক্ষেত্রে এ ধরনের বয়সের পশু নির্বাচন করতে হয়।

    গরুর বয়স নির্ণয় পদ্ধতি: গবাদিপশুর বয়স ফার্ম থেকে ক্রয় করলে ফামের্র রেজিষ্টার হতে পাওয়া যায়। এছাড়া পশু মালিকের নিকট থেকে তথ্য নিয়ে জানা যায়। বাছুর গরুর জন্মগ্রহণের রেজিষ্টার সংরক্ষিত না থাকলে পশুর দাঁত ও শিং এর রিং দেখে বয়স নির্ণয় করা যায়। গবাদিপশুর যখন দুটি স্থায়ী ইনসিজর দাঁত ওঠে তখন পশুটির বয়স হবে ১৯-২৪ মাস অর্থাৎ গরুর বয়স ২ বছর। এর পর প্রতি ৬ মাস অন্তর অন্তর এক জোড়া করে স্থায়ী দাঁত উঠে। একটি ৩.৫-৪.০ বছরের গরুর সামনের নিচের পাটিতে প্রতি পার্শ্বে ৪টি করে মোট ৮টি দাঁত উঠবে। গরুর বাচ্চা ভূমিষ্ট হওয়ার সময় অথবা বাছুরের ১ সপ্তাহ বয়সে সামনের অস্থায়ী দাঁত গজায় এবং ৫-৬ মাসের মধ্যে অস্থায়ী দাঁত সবগুলো উঠে যায়। অস্থায়ী ও স্থায়ী দাঁতের মধ্যে পার্থক্য হলো দাঁতগুলো কিছুটা সরু, দুই দাঁতের মাঝে ফাঁকা থাকবে এবং স্থায়ী দাঁত মোটা হয়ে ওঠবে এবং দুই দাঁতের গোড়ায় কোন ফাঁকা থাকবে না। এছাড়া শিং দেখে বয়স নির্ণয়ের বিষয়টি আরো সহজ।

    এ ক্ষেত্রে শিং এ গোলাকার রিং দেখে বয়স নিরুপন করা হয়। প্রতি রিংয়ের সংখ্যা + ২ = পশুর প্রকৃত বয়স। এছাড়া বলদ গরুকে মোটাতাজাকরণের প্রকল্পের জন্য ক্রয় করে দেখা গেছে বলদের স্বাস্থ্য তাড়াতাড়ি বৃদ্ধি হয় এতে অনেক প্রকল্প গ্রহণকারীগণ এড়ে গরুর চেয়ে বেশি লাভবান হয়েছেন।

    (খ) মোটাতাজাকরণের জন্য জাত বাছাই: পশু নির্বাচনে গরুর জাত একটি গরুত্ব পূর্ণ বিষয়। Beef Fattening এর জন্য আমাদের দেশে মাংসল কোন পৃথক গরুর জাত নেই। গরু মোটাতাজাকরণের জন্য উন্নত দেশে মাংসল জাত ব্যবহার হয়। উন্নত দেশে বিভিন্ন ধরনের মাংসের জন্য পৃথক জাতগুলো হলোঃ এবারডিন, এ্যানগাস, বীফমাষ্টার, ব্রাহমা ও হেরিফোর্ড ডেভন ইত্যাদি, যেহেতু আমাদের দেশে মাংসের জন্য পৃথক কোন জাত নাই সুতরাং দেশে প্রাপ্ত গরু-বাছুর বা সংকর জাতের পশু বিশেষভাবে মুল্যায়ন (Individual Performences)করে যাচাই-বাছাই করা উচিত এবং যে সময় গরুর বাজার দর কম থাকে সে সময়ে ক্রয় করা উচিত।

    গরুমোটাতাজা করার জন্য দেশী জাতের ষাঁড়, শাহীওয়াল সংকর ও ফ্রিজিয়ান সংকর জাতের ষাঁড় ক্রয় করা বাঞ্জনীয়।


    গবাদি পশু ক্রয় করার সময় নিম্নবর্ণিত বৈশিষ্ট্যগুলো বিচার করে সতর্কতার সহিত পশু নির্বাচন করতে হবে।

    বৈশিষ্ট্যাবলীঃ
    ১.পশুটির পূর্ব বংশ ভাল কিনা তা ভাল করে জেনে নিন।
    ২. মাথা ও গলা খাটো এবং চওড়া হতে হবে।
    ৩. কপাল প্রশস্ত হওয়া আবশ্যক।
    ৪. গায়ের চামড়া ঢিলে ঢালা হওয়া উচিৎ।
    ৫ .কাঁধ খুব পুরু ও মসৃন।
    ৬. পিঠ চ্যাপ্টা, অনেকটা সমতল।
    ৭. কোমরের দুই পার্শ্ব প্রশস্ত ও পুরু।
    ৮. বুক প্রশস্ত ও বিস্তৃত হতে হবে।
    ৯. শরীরে হাড়ের আকার মোটা হতে হবে।
    ১০. সামনে পা দুটো খাটো ও শক্ত সামর্থ হতে হবে।
    ১১. শিং খাটো ও মোটা হওয়া বাঞ্চনীয়।
    ১২. এঁড়ে/বলদ গরু হওয়া বাঞ্চনীয়।
    ১৩. লেজ খাটো হতে হবে।
    ১৪. স্বাভাবিক ভাবে পশুটি শারিরীক রোগ ক্রটি মুক্ত হতে হবে (খোড়া, গায়ে ঘা, অন্ধ, শরীরে টিউমার, রক্তশূন্যতা ইত্যাদি)।
    ১৫. স্বাভাবিক ভাবে দাঁড়ানো অবস্থায় পশুটিকে একটি আয়তক্ষেত্রের মত হতে হবে।
    ১৬. বদমেজাজী গরু ক্রয় করা উচিত নয়। (মানুষ দেখলে গুতো দেওয়া অভ্যাস)।


    (গ) গরু ক্রয়ের উৎস: গরু ক্রয়ের উৎস আগে থেকে ঠিক করতে হবে। যেমন-কোন ফার্ম থেকে সংকর জাতের শুধু ষাঁড় বাছুর সংগ্রহ করা যেতে পারে। স্থানীয় কোন বাজার থেকেও দেশী বা সংকর জাতের ষাঁড় গরু ক্রয় করা যেতে পারে গরু ক্রয়ের পর পরিবহণ একটি সমস্যা হতে পারে দু তিন কিলোমিটার পথ হলে গরুকে হাঁটিয়ে নিয়ে আসা যেতে পারে দূরের পথ হলে অবশ্যই পরিবহণ ব্যবহার করতে হবে এবং সে খরচ পোষাতে হলে গরুর সংখ্যা বেশি হতে হবে। গরুকে বেশি হাঁটিয়ে নিলে যে পরিশ্রম হবে তা কাটিয়ে উঠতে সময় নিবে এবং খরচও বেশি হবে। ষাঁড় গরুর রং যদি লাল বা কালো হয় তাহলে বাজার দর বেশি পাওয়া যাবে তাই এই ব্যাপারটা গরু কেনার সময় মাথায় রাখতে হবে।

    ৩য় ধাপ: নির্বাচিত পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা

    ১. গরু ক্রয়ের পর প্রথম ২ সপ্তাহ মূল ফার্ম থেকে আইসোলেশন শেডে রাখতে হবে। এর ফলে বুঝা যাবে ক্রয়কৃত গরু কোন রোগে আক্রান্ত কিনা এবং থাকলে তার ব্যবস্থা নিবে এবং আইসোলেশন পিরিয়ড শেষে তাদরকে মূল ফার্মে সংযুক্ত করতে হবে।


    ২. গরুগুলো কোন রোগে আক্রান্ত কিনা তা ভালোভাবে পরীক্ষা করে সুষ্ঠু চিকিৎসা করে সুস্থ করে তুলতে হবে।


    ৩. পশুকে ডি-ওয়ার্মিং এর মাধ্যমে কৃমিমুক্ত করতে হবে। কারণ আমাদের দেশের প্রায় ১০০% পশু কৃমিতে আক্রান্ত হয় এ জন্য পশু ক্রয় করার পর অবশ্যই কৃমিনাশক ঔষধ প্রয়োগ করতে হবে। এর পর ঐ পশুকে ৩/৪ মাস পর পর পুনরায় কৃমিনাশক ঔষধ খাওয়াতে হবে। বাজারে বিভিন্ন ধরনের ব্রড স্প্রেকটাম কৃমিনাশক ঔষধ পাওয়া যায়।


    ৪. বিভিন্নি রোগের বিরুদ্ধে টীকা/প্রতিষেধকঃ গরুকে কোন টিকা দেওয়া না থাকলে ক্রয় করার ৭ দিন পর থেকে বিভিন্ন ধরনের টিকা ১৫ দিন পর পর দিতে হবে। নিম্নে বর্ণিত টিকা পশুকে প্রয়োগ করতে হয় যেমন- তড়কা, ক্ষুরা, বাদলা, গলাফুলা ইত্যাদি।


    প্রকল্পের গরুকে কমপক্ষে ২টি ভ্যাকসিন অবশ্যই করা উচিত। একটি হল তড়কা রোগ ও অপরটি হলো ক্ষুরা বা F.M.Dরোগের টিকা। কারণ তড়কা একটি মারাত্মক রোগ। তড়কা টিকা প্রদান না করলে যে কোন সময় পশু মারা যেতে পারে। এ রোগ হলে চিকিৎসার সুযোগ দেয় না। তড়কা রোগের ভ্যাকসিন ১ মিলি চামড়ার নীচে দিতে হবে বছরে একবার মাত্র।


    এছাড়া ক্ষুরা F.M.D রোগ ও একটি মারাত্মক রোগ যদিও এ রোগে বড় পশু মারা যায় না তথাপি এ রোগে পশুর ওজন এত কমে যায় অর্থাৎ দুর্বল হয়ে পড়ে যে ৬ মাসে সেই পূর্বের অবস্থায় পশুর স্বাস্থ্য ফিরে আসে না এবং শরীরে ৬ মাস পর্যন্ত এ রোগের জীবাণু বসবাস করে। তাই তড়কা ভ্যাকসিন দেয়ার ১০-১৬ দিন পর F.M.D ভ্যাকসিন দিতে হবে। F.M.D ভ্যাকসিন বিভিন্ন স্ট্রেন মিশ্রণে হয় তাই প্রস্তত কারকের নির্দেশ মোতাবেক যেমন সরকারী মহাখালী পশু সম্পদ গবেষণাগার হতে তৈরি ভ্যাকসিন ১টি স্ট্রেন দ্বারা হলে ৩ সিসি ২টি স্ট্রেন দ্বারা তৈরি হলে ৬ সিসি চামড়ার নীচে দিতে হবে। এছাড়া F.M.D Vaccine বিদেশী হলে স্ট্রেন ও প্রস্ত্তত কারকের নির্দেশ মোতাবেক এটি সাধারণত ৫ সিসি বা ২ সিসি চামড়ার নীচে দিতে হয়। F.M.D ভ্যাকসিন প্রতি ৪ মাস পর পর দেওয়ার নিয়ম।
    উল্লেখিত ২টি ভ্যাকসিন প্রয়োগ করলে গরু মোটাতাজাকরণের পশু সংক্রামক রোগের হাত হতে মোটামুটি রক্ষা পাবে। তবে সুযোগ থাকলে বাদলা ও গলাফুলা রোগের টিকা প্রয়োগ করতে হবে।

    ৪র্থ ধাপঃ গবাদি পশুর জন্য স্বাস্থ্যসম্মত বাসস্থান



    গরুর বাসস্থানের উদ্দেশ্য

    * বিভিন্ন প্রতিকুল অবস্থা থেকে রক্ষা করা
    * বিভিন্ন বন্য প্রাণী এবং চোর ও দুষ্কৃতিকারীদের উপদ্রব থেকে রক্ষা করা
    * আরামদায়ক পরিবেশে বাসের সুযোগ প্রদান
    * স্বাস্থ্য সম্মত ব্যবস্থা গ্রহণ
    * সহজে পরিচর্যা করার সুবিধা
    * সহজে খাদ্য প্রদানের সুবিধা
    * শুষ্ক ও উঁচু জায়গা হতে হবে, যাতে খামার প্রাঙ্গণে পানি না জমে থাকে
    * খোলামেলা ও প্রচুর আলো বাতাসের সুযোগ থাকতে হবে।
    * খামারে কাঁচামাল সরবরাহ ও উৎপাদিত দ্রব্যাদি বাজারজাতকরণের জন্য যোগাযোগ সুবিধা থাকতে হবে
    * পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহের সুষ্ঠু ব্যবস্থা থাকতে হবে;
    * সুষ্ঠু পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা থাকতে হবে।



    বাসস্থানের গঠনঃ


    গরুর বাসস্থান হতে হবে প্রচুর আলো বাতাসযুক্ত স্থান।

    ঘর পূর্ব-পশ্চিমে লম্বালম্বীভাবে তৈরী করতে হবে। গরুর ঘর স্থাপনের ধরণ ৩ ধরনের হতে পারে। যথাঃ উন্মুক্ত ঘর, কমিউনিটি ঘর ও আবদ্ধ এবং প্রচলিত ঘর। আবদ্ধ ঘরে গরু এক সারি বা বহু সারিতে পালন করা যায়। দুই সারি বিশিষ্ট ঘর অন্তর্মূখী বা বহির্মূখী পদ্ধতিতে গাভী পালন করা হয়।

    * প্রতি গরুর জন্য গড়ে ৩০-৩৫ বর্গ ফুট (৭’x ৫’) জায়গার প্রয়োজন হবে। ঘরের মেঝে থেকে চালা এর উচ্চতা কমপক্ষে ১০ ফুট হতে হবে। টিনের চালা বিশিষ্ট ঘর হলে টিনের চালার নিচে চাটাই ব্যবহার করতে হবে। ভিটায় ১ ফুট মাটি উঁচু করে এর ওপর ১ ফুট বালু দিয়ে ইট বিছিয়ে মেঝে মসৃণ করার জন্য সিমেন্ট, বালু ও ইটের গুঁড়া দিতে হবে। বাঁশের খুঁটি দিয়ে বেঁধে ওপরে ধারি অথবা খড় ও পলিথিন দিয়ে চালা দিতে হবে, ঘরের পাশে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা দরকার। পাশাপাশি দাঁড়ানো গরুকে বাঁশ দিয়ে আলাদা করতে হবে যাতে একে অন্যকে গুঁতা মারতে না পারে। ঘরের চারপাশ চটের পর্দার ব্যবস্থা রাখতে হবে, যাতে অতি বৃষ্টি ও অতি ঠান্ডার সময় ব্যবহার করা যায়।

    * গরুর ঘরে খাদ্য সরবরাহের জন্য ৫ ফুট প্রশস্ত রাস্তা, খাদ্য পাত্র ও পানির পাত্রের জন্য ২ ফুট এবং নালার জন্য ১ ফুট জায়গা রাখতে হবে ।

    * গোয়াল ঘরের বর্জ নিষ্কাষনের জন্য পর্যাপ্ত ড্রেন রাখতে হবে।

    * ঘরের মেঝে পাকা হলে মসৃণ প্লাস্টার না করে খসখসে রাখতে হবে যাতে গরু পিছলিয়ে পড়ে না যায়। মেঝে নালার দিকে হালকা ঢালু হবে, কিন্তু তা সর্বোচ্চ ১.৫ ইঞ্চি হতে পারে।
    * ঘরের দেয়াল নীচের দিকে সর্বোচ্চ ১.৫ ফুট হতে হবে যাতে শুয়ে থাকা অবস্থায়ও পশুর শরীরের উপর দিয়ে বাহিরের বাতাস প্রবাহিত হয় এবং বাকী অংশ ১বর্গ ইঞ্চি ফাঁকা ফাঁকা রেখে জিআই তার দিয়ে বেষ্টনী দিতে হবে। ফলে গোয়াল ঘরে পর্যাপ্ত আলো বাতাস প্রবেশ করতে পারবে। তাতে গাভীর উৎপাদন বাড়বে এবং রোগ ব্যাধী কম হবে।

    * গোয়াল ঘর প্রতিদিনই এক বা একাধিক বার ভালভাবে পরিষ্কার করতে হবে। গোবর, চনা ও খাদ্যের বর্জ্য পরিষ্কার করে তা নির্ধারিত পিট/গর্তে ফেলতে হবে। সবচেয়ে ভাল হয় যদি খামারে বায়োগ্যাস প্লান্ট থাকে এবং বায়োগ্যাস প্লান্ট এর পিটে বর্জ্য সরাসরি স্থানান্তর করা যায়।
    * খামারে প্রতিদিন এন্টিসেপটিক স্প্রে করতে হবে । এতে রোগ সংক্রমণ কমবে, মশা-মাছির উপদ্রব কমবে। সপ্তাহে অন্তত একবার ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করে গরুর সেড ভালভাবে পরিষ্কার করত হবে।



    একসারি বিশিষ্ট গো-শালাঃ


    অল্প সংখ্যক গবাদি পশুর জন্য একটি লম্বা সারিতে বেঁধে পালনের জন্য এই গো-শালা তৈরি করা হয়। প্রতিটি পশুকে পৃথক রাখার জন্য জিআইপাইপ দিয়ে পার্টিশন দেয়া হয়, পার্টিশনের পাইপ লম্বায় ৯০ সে.মি. এবং উচ্চতায় ৪৫ সে.মি. হওয়া প্রয়োজন, একটি গরুর দাঁড়াবার স্থান ১৬৫ সে.মি., পাশের জায়গা ১০৫ সে.মি., খাবার পাত্র ৭৫ সে.মি. এবং নালা ৩০ সে.মি. হওয়া প্রয়োজন, একই মাপে পশুর সংখ্যা অনুযায়ী জায়গা নির্ধারণ করে গো-শালা তৈরি করা হয়, গো-শালা হবে একচালা বিশিষ্ট ঘর, ঘরের ছাদ প্রায় ৩০০ সে.মি. উঁচুতে করতে হয়।



    দুই সারি বিশিষ্ট গো-শালাঃ

    অল্প জায়গায় অধিক পশুপালনের জন্য এ ধরণের গো-শালা তৈরি করা হয়, এ ধরনের গো-শালায় পশুকে দুভাবে রাখা যায়, মুখোমুখি পদ্ধতি ও বাহির মুখ পদ্ধতি। মুখোমুখি পদ্ধতিতে দুই সারি পশু সামনাসামনি থাকে। দুইসারি খাবারের পাত্রের মাঝখানে ১২০ সে.মি. চওড়া রাসত্দা থাকে- যা পাত্রে খাবার দেবার জন্য ব্যবহার করা হয়, একটি গরুর জন্য দাঁড়ানোর জায়গা ৫.৫ ফুট, পাশের জায়গা ৩.৫ ফুট।



    উম্মুক্ত ঘরের বিবরণ:

    • এই ঘর চারিদিকে শক্ত কাঠ অথবা লোহার পাইপ দ্বারা ঘেরা থাকে
    • ঘেরার মধ্যে গরু ছাড়া অবস্থায় থাকে
    • ঘেরার বাইরে পাত্রে খাবার দেওয়া হয়
    • ঘেরার ভিতর দিয়ে মাথা ঢুকিয়ে তারা খাদ্য খেতে পারে এবং পাত্রে দেওয়া পানি পান করতে পারে।
    • ঘেরার মধ্যে তাদের স্বতন্ত্র বিশ্রামের জন্য নির্দিষ্ট স্থান থাকে
    • ঘেরার মধ্যে পশু স্বাধীনভাবে বিচরণ করতে পারে
    • সকালে-বিকালে ঘেরার ভিতরের গোবর পরিষ্কার করে হোস পাইপের সাহায্যে ধুয়ে দেওয়া হয়।
    • কখনও একই ঘরের মধ্যে বিপরীত লিংঙ্গের গবাদি পশু একত্রে রাখা যাবে না
    • এই প্রকারের ঘরের শুধু ছাউনি থাকে এবং চারিদিকে খোলামেলা থাকে। ঝড়-বৃষ্টি ও শীতের সময়
    • চারিদিকে চটের পর্দা ঝুলিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকে
    • উন্মুক্ত ঘরে গরু প্রতি ৮-৯ বর্গমিটার স্থান বা ৮৫-৯৫ বর্গফুট স্থান প্রয়োজন

    ষাঁড় গরু এই জাতীয় ঘরে রাখা কিছুটা সমস্যা হয়।

    রিলেটেড আর্টিকেল

    সামাজিক যোগাযোগ

    9,748,568ভক্তমত
    1,567,892অনুগামিবৃন্দঅনুসরণ করা
    56,848,496গ্রাহকদেরসাবস্ক্রাইব
    - Advertisement -

    সর্বশেষ আর্টিকেল

    জনপ্রিয় আর্টিকেল

    error: Content is protected !! Don\'t try to copy!!!